কাগজ আমদানিতে শুল্ক কর ৫ শতাংশ করার দাবি

আসন্ন বাজেটে প্রকাশনা, মোড়কজাত ও ওষুধ শিল্পের প্রধান কাঁচামাল উন্নতমানের পেপার ও পেপার বোর্ড আমদানিতে শুল্ক কর ৫ শতাংশ বা তারও নিচে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন কাগজ মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

আসন্ন বাজেটে প্রকাশনা, মোড়কজাত ও ওষুধ শিল্পের প্রধান কাঁচামাল উন্নতমানের পেপার ও পেপার বোর্ড আমদানিতে শুল্ক কর ৫ শতাংশ বা তারও নিচে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন কাগজ মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা। জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল কাগজ মিল ব্যবসায়ীদের চারটি সংগঠনের যৌথ আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, কাগজ আমদানিতে শুল্ক কর (সিডি) ৫ শতাংশ করা হলে এ ব্যবসায় শৃঙ্খলা বাড়বে, দুর্নীতি হ্রাস পাবে ও কর ফাঁকির হার কমে আসবে। ফলে সরকারের রাজস্ব আদায় বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

ব্যবসায়ীরা জানান, নিয়ম অনুযায়ী ব্যক্তিগত বা কোম্পানি আয়করের ওপর অডিট আপত্তির বিপরীতে আপিল ট্রাইবুনালে আপিল দায়ের করতে হলে আপত্তীকৃত মোট টাকার ওপর ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। উচ্চ আদালতে আপিলের ক্ষেত্রে এটি ২৫ শতাংশ। কিছু অসাধু কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে অযাচিত অডিট আপত্তি দিয়ে থাকেন। উভয় ক্ষেত্রে এ কর যদি ৫ শতাংশ করা হয়, তাহলে অসাধু কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্য কমবে। এছাড়া ভ্যাট কমিশনারের দেয়া মূসকের বিপরীতে আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করার ক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ জমা ১০ শতাংশ এবং উচ্চ আদালতে ইনকাম ট্যাক্স রেফারেন্সের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ জমা দিতে হয়। উভয় ক্ষেত্রে যদি ৫ শতাংশ করা হয়, তাহলে সেখানেও অনৈতিক সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে অযাচিত অডিট আপত্তি দেয়ার প্রবণতা হ্রাস পাবে এবং ব্যবসায়ীরা হয়রানিমুক্ত হতে পারবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে ডুপ্লেক্স বোর্ড ও আর্ট কার্ডের মূল্য কমে যাওয়ায় আমদানিতে প্রকৃত বিনিময় মূল্যে শুল্কায়নের দাবি জানান তারা।

বাংলাদেশ পেপার ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ভরসা বলেন, ‘‌বন্ড ব্যবসায়ীরা খোলাবাজারে পণ্য ছেড়ে দেয়। এতে তাদের সঙ্গে বাজারে পেরে ওঠা যায় না। যদি শুল্ক কর ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়, তাহলে দেশের রাজস্বে হাজার কোটি টাকা যুক্ত হবে। একই সঙ্গে দেশে কাগজের বাজার বড় করতে হলে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেপার ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পেপার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, মেট্রোপলিটন প্রেস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ এবং চট্টগ্রাম কাগজ ও সেলোফিন ব্যবসায়ী গ্রুপের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও